পনপ্রথা নিষিদ্ধ আইন
দি নিউজ লায়নঃ পনপ্রথা নিষিদ্ধ করতে ১৯৬১ সালে তৈরী হয় পনপ্রথা নিষিদ্ধ আইন। এই আইনে ফাঁক ফোকর থাকায় সমাজে বিশেষ উপকার হয়নি , বরং সময়ের সাথে সাথে পনের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। আর এর সঙ্গে বেড়েছে বধূদের ওপর নির্যাতন, আত্মহত্যা, খুনের মতো ঘটনা। পনপ্রথা একটি দীর্ঘদিনের কুপ্রথা। এই প্রথার জেরেই মেয়েদের তাঁর স্বামীর ঘরে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। উপযুক্ত বয়সে টাকা যোগাড় করা সম্ভব না এই ভেবে বাল্য বয়সে মেয়ের বাবা মা রা তাদের বিবাহ দিয়ে দেয়। কিন্তু বাল্যবিবাহ বেআইনি।
সমস্ত দিক বিষয় বিবেচনা করে বিভিন্ন দফায় এই আইন সংশোধন করে ১৯৮৬ সালে 'পনপ্রথা নিষিদ্ধ করণ আইন' শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়। পন দেওয়া বা নেওয়া সঙ্গে যুক্ত থাকা উভয় পক্ষেই শাস্তির বিধান আছে। একটি মেয়ের জন্মের পর থেকে ভালোভাবে মানুষ করে তোলা পযন্ত তাঁর বাবা মায়ের অনেক অবদান থাকে। এর পর যখন সে মেয়ে বিবাহের উপযোগি হয়ে ওঠে তারা চায় যে,সে যেন একটি সুপাত্রের সাথে তাঁর বিবাহ করে এবং তাদের সন্তান একটি সুন্দর জীবন শুরু করে। মেয়ে কে ভালো রাখার জন্য বাবা মায়েরা তাদের সামর্থ বাইরে গিয়ে ছেলের বাড়ির সমস্ত দাবি পূরণ করতে আরম্ভ করে। তারা ভাবে এতে তাদের সন্তান সূখে থাকবে।
কিন্তু এই থেকে শুরু হয়ে যায় সেই মেয়েটির ওপর অত্যাচার। যখনই জামাইয়ের দাবি পূরণ করতে মেয়ের বাবা মা ব্যর্থ হয় ঠিক তখনই অত্যাচার হতে হয় এই নিরিহ মেয়েটিকে।ছেলের বাড়ির সন্মান বাড়ে মেয়ের বাড়ি থেকে সে কত বেশি পন দেওয়া দেখে। সমীক্ষায় দেখা যা্চ্ছে ৬০% বেশির মহিলা পনের জন্য প্রতিনিয়ত শ্বশুর বাড়িতে অত্যাচারিত হচ্ছে। এমন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের মন্ডপে এসে ছেলের বাড়ি পন্যের দাবি বাড়িয়ে দেয় যাতে মেয়ের সন্মান বাচানোর জন্য তারা তাদের দাবি পূরণ করে ।
এই ভাবেই দাবি না মেটাতে পেরে অনেক নব বধূ প্রাণ দিয়ে দেয়, বিয়ে ভাঙ্গার মানসিক যন্ত্রণা নিতে না পেরে। পনপ্রথা নিষিদ্ধ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য চালু করা হয়েছে, আমাদের ইন্ডিয়ান পার্লামেনট "The Dowry Prohibition Act 1961" ১(পয়লা) মে তে পাস করা হয়ে। যে বা যারা এই পনপ্রথা নেওয়া বা দেওয়া সাথে যুক্ত বা লেনদেন করতে সাহায্য করবে কমপক্ষে ৫ বছরের শাস্তি ও জরিমানা পেতে হবে।পনপ্রথা আইনকে সিরিয়াস ফৌজদারি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পনপ্রথা দাম্পত্যজীবনে অশান্তির মূল কারণ। তাই এই প্রথার অবসান জরুরি।

Post a Comment